ভাগীরথীর তীরে করোনা আক্রান্তের মৃতদেহ সৎকারের অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার , বিক্ষোভের মুখে পুলিশ

19th July 2020 8:27 am বর্ধমান
ভাগীরথীর তীরে করোনা আক্রান্তের মৃতদেহ সৎকারের অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার , বিক্ষোভের মুখে পুলিশ


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( কালনা ) : কোনো রকম স্বাস্থ‍্য বিধি না মেনে  রাতের অন্ধকারে পুলিশ গোপনে করোনা আক্রান্তের মৃতদেহ সৎকার করাচ্ছে ভাগীরথীর  পাড়ে। এমন অভিযোগ ঘিরে   উত্তাল হল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের  কমলনগর গ্রাম ।  পুলিশ কে ঘেরাও করে রেখে রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখাল গ্রামের মহিলা  ও পুরুষরা । ঘেরাও বিক্ষোভ রাত পর্যন্ত জারি থাকে ।পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে  বিক্ষোভ  নিয়ন্ত্রণে আনে । 

 গ্রামের  বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাগীরথী নদীর পাড়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে  পুলিশের উপস্থিতিতে গোপনে এক ব্যক্তির মৃতদেহ সৎকার করা হয়েছিল ।সেই মৃতদেহের সৎকারও ভালোভাবে করা হয়নি।  ভাগীরথীর পাড়েই পড়ে থাকে  মৃতদেহের আধপোড়া অংশ  । যে জায়গায় মৃতদেহ পোড়ানো হয়েছে তার খুব কাছাকাছি জায়গা থেকেই পিএইচই র মাধ‍্যমে এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করা হয় । কোনরকম স্বাস্থ‍্য বিধি না মেনেই এখানে মৃতদেহ সৎকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ।  বাবলু মন্ডল,মিলন মন্ডল প্রমুখরা বলেন , ভাগীরথীর পাড়ে মৃতদেহের আধপোড়া অংশ পড়ে থাকার বিষয়টি শুক্রবার এলাকার বাসিন্দাদের  নজরে আসে । যা দেখে  গ্রামের বাসিন্দারা মনে করতে শুরু করেন পুলিশ নিশ্চই রাতের অন্ধকারে গোপনে করোনা আক্রান্তের মৃতদেহ গ্রামের ভাগীরথীর পাড়ে সৎকার  করিয়েছে । গ্রামের লোকের মুখে মুখে এই কথা ঘুরপাক খেতে থাকে । ফের ওই এলাকায় পুলিশ গেলে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ পুলিশের উপরে আছড়ে পরে ।  গ্রামবাসীরা  পুলিশকে  ঘিরে ধরে ওই আধপোড়া মৃতদেহের অংশ তুলে নিয়ে যাওয়ার দাবি করে রাত পর্যন্ত পুলিশের গাড়ি আটকে রেখে  বিক্ষোভ দেখিয়ে চলে ।এই বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাসকে ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি যদিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।তবে কালনার মহকুমা শাসক সুমন সৌরভ মহান্তি গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে । 

 





Others News

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) : প্রায় এক বছর আগে আবেদন করেও মেয়ের জাতিগত শংসাপত্র মেলেনি । আবেদনকারীদের জাতি শংসাপত্র দেওয়ার
ক্ষেত্রে দেরি করা যাবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটে চলেছে।প্রায় এক বছর আগে  চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে  আবেদন করেছিলেন মা।কিন্তু মেয়ে কে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসলেও জাতি  শংসাপত্র আজও না মেলায় কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির রাধাকান্তপুর নিবাসী ঊর্মিলা দাস।ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য ঊর্মিলাদেবী বৃহস্পতি বার মেমারি ১ ব্লক বিডিও অফিসে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন। শংসাপত্র পাবার জন্য বিডিও সাহেব কি ব্যবস্থা করেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে ঊর্মিলাদেবী। 

বিডিওকে লিখিত আবেদনে ঊর্মিলাদেবী জানিয়েছেন ,তাঁর স্বামী মানিক দাস দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী ।বছর ১০ বয়সী তাঁদের একমাত্র কন্যা গ্রামের বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত কালে তাঁর ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী আবেদন করেছিলেন।  উর্মিলাদেবী বলেন ,তার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে  গেলেও তিনি তাঁর মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পান না।মেয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসায় গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তিনি শংসাপত্রের বিষয়ে মেমারি ১ ব্লকের বিডিও অফিসে খোঁজ নিতে যান।জাতি শংসাপত্র বিষয়ের বায়িত্বে থাকা বিডিও অফিসের আধিকারিক তাঁকে অনলাইনে এই সংক্রান্ত একটি নথি বের করে আনতে বলেন । অনলাইনে সেই নথি বের করেনিয়ে তিনি ফের ওই আধিকারিকের কাছে যান । তা দেখার পর ওই আধিকারিক তাঁকে  ২০ দিন বাদে আসতে বলেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন , তিনি ২৫ দিন বাদে যাবার পর ওই আধিকারিক তাঁকে গোপগন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে খোঁজ নেবার কথা বলেন । তিনি এরপর গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যান । নথি ঘেঁটে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে কোন ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি।ঊর্মিলাদেবী দাবী করেন ,এই ভাবে তিনি একবার বিডিও অফিস , আবার পঞ্চায়েত অফিসে দরবার করে চলেন । কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয় না। মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য  গত ১৩ ডিসেম্বর ফের তিনি বিডিও অফিসে যান ।ওই দিনও বিডিও অফিসের জাতি শংসাপত্র বিষয়ক বিভাগের আধিকারিক তাঁকে একই ভাবে পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যেতে বলে দায় সারেন। পরদিন তিনি পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে গেলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ফের জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে  ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি । কেন মেয়ের জাতি শংসাপত্র পাচ্ছেন না সেই বিষয়ে  না পঞ্চায়েত না ব্লক প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ কেউই তাঁকে কিছু জানাতে পারেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন ,পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির আগে তার মেয়ে যাতে ওবিসি শংসাপত্র পেয়ে যায় তার ব্যবস্থা করার জন্য এদিন তিনি বিডিওর কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন । মেমারী ১ ব্লকের বিডিও আলী মহম্মদ ওলি উল্লাহ এদিন বলেন ,“জাতি শংসাপত্র পাবার জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে । তবে ঊর্মিলাদেবীর কন্যা দ্রুত যাতে বিবিসি শংসাপত্র দ্রুথ পান সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে “। মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য্য বলেন,’মেমারি  বিধানসভা এলাকার আবেদনকারীরা দ্রুত যাতে জাতি শংসাপত্র পান সেই বিষয়ে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলবো’।